Freelancing Career Startup Story

হঠাৎ করে সকিছু বদলে গেলো। আমি বেকার হয়ে গেলাম। বঊ বাচ্চা নিয়ে টিকে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে গেলো। আমি চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলাম। দুই বছরের বাচ্চা টাকে নিয়ে আমি …

আমার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর গল্প

সময় টা ২০২০ সাল। ফেব্রুয়ারি মাস। কাতার থেকে ছুটিতে আসি আমার প্রথম বাচ্চা সোলাইমান কে দেখার জন্য। তখন তার বয়স ছিলো ১ বছরের কম। তিন মাসের ছুটিতে যখন দেশে আসি তখন পৃথিবীতে করোনা ছিল না। আমি জানতাম না আর হয়তো কোনোদিন কাতারে ফিরে যেতে পারবো না। পাঁচ বছর ধরে কাতার গ্যাস ক্লাবে রিসিপশনিস্ট হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় ছিলাম। ভালোই চলছিল দিনগুলো। আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিলো। ২০১৯ সালের এপ্রিল এর ৯ তারিখ সোলায়মান এর জন্ম হয়। আমি তখন ও কাতারে ছিলাম। দেশে আসতে পারিনি, বাবু র জন্মের সময় আমি কাছে থাকতে পারিনি।

দেশে যখন এসেছিলাম তখন আমার ভেতর অনেক এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল। প্রথমবার বাবুকে দেখতে আসা, কিন্তু ঘূর্নাক্ষরেও ভাবিনি’ যে আমি হয়তো আর ফিরে যেতে পারবো না কাতারে, পৃথিবী ডুবে যাবে করোনার অভিসম্পাত এ। আমি হয়তো আর চাকরি খুঁজে পাবো না, পরিবারকে নিয়ে আমি এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে এগিয়ে যাব, এই ভাবনা আমার ভিতর তখন ছিলোই না। আমি তো হাসতে হাসতে প্লেনে উঠেছিলাম ৯ ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ এ। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে লকডাউন শুরু হয়। শুরুর দিকে মনে করেছিলাম এই লকডাউন কিছুদিনের মধ্যে হয়তো শেষ হয়ে যাবে, পৃথিবী আবার আগের মত হয়ে যাবে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমি আবার কাতারে ফিরে যেতে পারবো। আমার চাকরিটা থাকবে, জীবনযাত্রা স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে এভাবেই ভাবছিলাম জুন মাস পর্যন্ত। তারপর একটা সময় অপেক্ষা করা বন্ধ করে দিতে হয়। কাতারের চাকরি টা চলে যায়।

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন রকম ভাবে ফ্যামিলি টা চালিয়েছি এবং নিজে চলেছি। প্রথমদিকে খরচ একটু বেশি হতো কারণ তখন জানতাম না যে আমি আর ফিরে যেতে পারবো না। গতবছরের যখন রোজা হচ্ছিল তখন সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপ গ্রুপের ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের কোর্স শুরু হয়। আমি মাসিক ই এম আই তে একটা ল্যাপটপ কিনি। ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের ব্যাচ ওয়ানের স্টুডেন্ট আমি। সারাটা রমজান মাস জুড়ে এই ক্লাস টা হয়েছিল ফেইসবুক লাইভে। তখন কোন ওয়েবসাইট ছিলো না।

গত বছরের মে মাসের ২৮ তারিখে আমি প্রথম ফাইবার থেকে অর্ডার পাই, সেটা আমার জীবনের প্রথম অনলাইন ইনকাম না, এর আগেও আমি অনলাইনে অল্প কিছু ইনকাম করেছিলাম কিন্তু সেটা ছিল ফরেক্স মার্কেটের ইনকাম। ফাইবার থেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সেটাই ছিল আমার প্রথম ইনকাম। এই ইনকামটা আমার জীবনে অনেক দরকার ছিল। ছোট একটা বাচ্চা, বাবা, মা, ছোট ভাই সব মিলিয়ে তখন আমার অনেক খরচ প্রতি মাসে। ফিনান্সিয়াল অবস্থাটা অত ভাল ছিলনা এবং সব থেকে জরুরি ব্যাপার হচ্ছে আমার নিজের একটা ইন্সপাইরেশন এর খুব দরকার ছিল। পাঁচ বছর অন্য ট্র‍্যাকে কাজ করেছি হঠাৎ করে অনলাইন কমিটিতে নিজেকে এস্টাবলিশ করার জন্য এই ইনকামটা আমার দরকার ছিল। আমি বলবো এই ইনকামের পুরো ক্রেডিট সফল ফ্রিল্যান্সার এর ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন এর ব্যাচ ১ কোর্স এর মেন্টর দের। এরপর থেকে ফাইবারের এ রেগুলার বেসিসে না হলেও মাঝেমাঝেই অর্ডার পেতাম এভাবেই কেটে যায় বেশ কিছুদিন।

আমি সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের এডমিন কাশিম উদ্দিম মাসুম ভাইয়ের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এরপর থেকে আমি লোকাল কাজ করতে থাকি। বেশ কিছু ওয়েবসাইটের কাজ পেয়ে যাই আমি। বাসা থেকে বারবার বলছিল নিজের ফ্যামিলি হয়েছে, এভাবে আমার ফ্রিল্যান্সিং এর উপর ডিপেন্ডেন্ট হওয়াটা উচিত নয়। মূলত তাদের চাপাচাপির জন্যই আমি একটা চাকরিতে জয়েন করি জুন মাসের দিকে। তিন মাস আমি চাকরিটা করি। এটা একটা গাড়ির ওয়ার্কশপের ফাইন্যান্সের চাকরি ছিল। আমি টাকা পয়সার হিসেব রাখতাম মালিকের। সেপ্টেম্বর মাসে আমার সেই চাকরিটা চলে যায়। আমার মামা শ্বশুর এর ওয়ার্কশপ ছিলো ওটা। করোনাতে ওনার ব্যবসার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আমি আবার বেকার হয়ে পড়ি।

আবার সেই ফ্রিল্যান্সিংয়ে মনোযোগ দেই। এর মাঝখানে সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের থেকে আমি বেশ কিছু রিসোর্স পাই যেগুলো আমার অনেক কাজে লাগে। আমি বাইরে ক্লায়েন্টের কাজ করার জন্য সেই রিসোর্স গুলো ব্যবহার করতাম যেমন প্রিমিয়াম থিম, কিছু ইমেইল মার্কেটিং এর টেমপ্লেট, প্রিমিয়াম লোগো টেমপ্লেট ইত্যাদি আরো অনেক কিছু।

আমি সবসময় সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের একটিভ মেম্বার দের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি যদি সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের থেকে সেই ইন্সপাইরেশন টা না পেতাম তাহলে হয়তো সেপ্টেম্বর মাসে চাকরিটা চলে যাওয়ার পরে অনেক হতাশ হয়ে পড়তাম।

যাই হোক অক্টোবর-নভেম্বর থেকে আমি আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড তানজিল এর রেফারেন্সে এবং তার উৎসাহে কিছু লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ পেতে থাকি।

এভাবেই আমার ২০২০ সালের বছরটা চলে যায়। এরই মাঝে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রতি আমার আগ্রহ বাড়ে। বিশেষ করে মাসুম ভাইয়ের বিভিন্ন এফিলিয়েট প্রজেক্ট এর কথা শুনে এবং তার ইনকাম আমাকে উদ্বুদ্ধ করে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে নিজেকে নিয়ে আসতে। টেষ্ট বেসিসে আমি নেইমচিপ এর এফিলিয়েট করা শুরু করি। আশেপাশের মানুষজন দাঁড়াই কিছুটা ইনকাম হয়। এক্স্যাক্টলি এই মুহূর্তে আমার কমিশন জংশনে ৩৮ ডলার জমা আছে যার পুরোটাই ইনকাম হয়েছে নেইমচিপ এফিলিয়েট এর মাধ্যমে। এই ৩৮ ডলার ইনকাম আমাকে প্যাসিভ ইনকাম নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে।

আমি আমার সামগ্রিক অবস্থাটা জানিয়ে খালিদ ফারহান ভাইকে একটি ইমেইল করি এবং তাতে উল্লেখ করি যে আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে আগ্রহী। উনি ওনার কোর্সটাতে আমাকে এনরোল করিয়ে দেন। আমি ওনার কোর্স টা পুরোটা দেখেছি এবং সেখান থেকে অনেক ইন্সপায়ার্ড হয়েছি। কিন্তু সবকিছু আপডেটেড টা শিখতে হলে আমার প্রয়োজন হচ্ছিল একটা লাইভ কোর্সের।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং এডসেন্স লাইভ প্রজেক্টে অনলাইন কোর্স টা সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপ নিয়ে এসেছে। আমি আজ এই কোর্সে এন্ড রোল করেছি। আমি আশা করছি এই কোর্স থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারব এবং আগের মত এবারো এই কোর্সের পরবর্তীতেও আমি নিজেকে প্যাসিভ ইনকামের পথে নিয়ে যেতে পারবো।

“Dream is not the thing you see in sleep but is that thing that doesn’t let you sleep.”
– APJ Abdul Kalam.

আমার বিশ্বাস সব সময় সফল ফ্রিল্যান্সারের উপর ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাল্লাহ। আশেপাশের অনেকেই হয়তো অনেক রকম কথা বলে কিন্তু আমি সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের বিভিন্ন রিসোর্স এবং তাদের পেইড কোর্স থেকে যা পেয়েছি তা দিয়ে আমার এক বছরের সংসার খরচ চলে গেছে। আমি নিজেকে একটা ইনকামের পথে নিয়ে আসতে পেরে গর্বিত। আমাকে পথ দেখিয়েছে সফল ফ্রিল্যান্সার গ্রুপের মেন্টর রা। আমি বিশ্বাস করি কেউ যদি লেগে থাকে এবং গ্রুপের সমস্ত রিসোর্স গুলোকে কাজে লাগিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সে নিজেকে একটা ইনকামের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

গত ৭/৮ মাস যে আমি শুধুমাত্র অনলাইন ইনকামের উপর ডিপেন্ড করেছিলাম ঠিক তা কিন্তু নয়। আমি কিন্তু অন্য অন্য কাজও করেছি। ইভ্যালি তে অল্প কিছু টাকা ইনভেস্ট করে সেগুলো রিসেল করেছি। নিজে একটা ই-কমার্স প্লাটফর্ম দাড়া করানোর জন্য চেষ্টা করছি। ডলারে ইনকাম করে বাংলা টাকায় খরচ করতে পারলে তাতে সেইভ বেশি হয়। এটা আমার উপলব্ধি।

বিদেশি ডলার ইনকাম আমাকে আমার ল্যাপটপ এর লোন আর বাইকের লোন চুকাতে অনেক সাহায্য করছে (এখনো লোন টা রানিং)।

সবশেষে, আমি আপনাদের কাছে দোয়াপ্রার্থী। প্রায় ৩ মাস আমি আমার শ্বশুড় কে নিয়ে হসপিটালে ছোটাছুটি করেছি। আমি ব্যাঙ্গালোরে ১ মাস ছিলাম তা কে নিয়ে। ওনার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। আমার বাসার সবার করোনা হয়েছিলো। ২৫ শে ফেব্রুয়ারী আমি ঢাকায় আসি শ্বশুর কে নিয়ে। ২০২১ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখ থেকে আমি পিজি হসপিটালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হই আমার নানী কে নিয়ে। ওনার এটেনডেন্ট হিসেবে। আমার বাসার অবস্থা টা এমন যে আমি এখন অনেক কিছুতেই চাইলেই মনোযোগ দিতে পারছিনা।

আমার জন্য ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ধন্যবাদ আমার জার্নিটা পড়ার জন্য।